সোমবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৯

সৌরভ মজুমদার


সৌরভ মজুমদার

অভিজ্ঞান

খাঁচায় আসীন চলেছ যে ই-রিকশায়
মরুৎ দেশের পাখি      
কূলপাখিনি কি জেনেছে তোমার সাকিন !   
পুরনো আকাশ-দপ্তর
পেয়েছে কি কোনো, তোমার বাস্তুবদল
খবর, নাকি সপার্ষদ এখনো সন্ধানী        
ব্যাস্ত আবহাওয়া বিজ্ঞানী...      
         
অশোক ছাওয়া কলোনিতে হিউয়েন সাঙের  
চায়ের পেয়ালায় গরম আলাপ ইবন বতুতার  
তোমার শ্রাবণ শৈত্য ঘিরে, তুমি নির্বিকার  
চলো নিজের খেয়ালে, ঠোঁটের জোরে লোহা-জালের 
দরজা খোলা আকাশ চিন্তায়, সহজ চোখে
প্রয়োগ অভিজ্ঞানী... 

... বদলে দেওয়া ধর্মাচরণ, পাখির যাপন নবনী           







ঋণগ্রস্ত

এক রাত্রির ঋণ সারাটা সময়ের উপর চেপে বসে 
ঝুঁকে গ্যাছে কাঁধ, চাল চলনও - হীনউদ্যম, ক্লান্ত 
করমচা গাছের ছোট ছায়ায় এলানো শরীর - এও বাহ্য
মুকুল ফোটে সহসা শ্রাবণধারায়, ফকির চরিত্র   
নেমে চলে জলের উপর, জলের মধ্যে, জলের তলায়
আরও, আরও, আরও

এক রাত্রির ঋণ, অন্য অন্য চরিত্র নিয়ে আসা - কাক           
শেয়াল শাইলক বক ধর্ম - এরপর নেমেছে তার সাথে
হাজার মিটার নিকষ জলস্তরে । নেমে গ্যাছে   
তারও নীচে, ছুঁয়েদেখে মৃতপ্রায় সূর্যালো, রিরংসা       
ফিরেছে আবার উজানে         
গায়ে শব্দছেঁড়া গোপন বুদবুদ, জলমুদ্রা জড়ানো   

তারপর
উথল হলে নিঃসঙ্গ বোধোদয়, উজ্জ্বল
সে এক রাত্রির ঋণ, ঋজু জেগে থাকে  
               নির্জন আরাত্রিকায়, প্রত্যহের নির্বাসনে  







ছবি আর সে

বহু বহুদিন পর দাঁড়ানো আবার এসে
তাহাদের বাড়ির স্টেশনে, রাত্রে...
সে আর সেই ছবি মিলেমিশে একত্রে 
অন্য কেউ নেই -
কেউ অন্য নেই কোনোখানে

অঙ্গুলীহেলনে ছবির চাঁদ নামে রাত-দর্পণে
তারা ফোটে একটি দুটি; গোছা গোছা
চাঁদফুল উৎকণ্ঠা নেমে আসে -
নেমে দাঁড়ায় সে-ও
বিগত ব্যথাচিত্র থেকে প্ল্যাটফর্মে
কংক্রিটে বাইরের পিছল জ্যোৎস্নায়
সে আর সে, একাকী... 
                   অন্য কেউ নেই মাঝখানে

মুঠোফোনে বর্তমান
স্টার-ওয়াক উঁকি দিয়ে যায়