বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯

মঞ্জিমা গাঙ্গুলী


মঞ্জিমা গাঙ্গুলী

শিউলির খাস জমি

এমন টুপটুপে সকালে গাছবারান্দা থেকে
দেখা যায় শিউলিতলা।
অজস্র ঝরে পড়ে আছে সাদা কমলা ঘনগন্ধ
কুলোর চালপড়া ঘাসের উপর
দোয়েল এসে বসে
চাল খায় শিস্ দেয়
শরিকি বাড়ির বাচ্চাগুলোকে দেখে
জানলাগুলো সব এখনো বন্ধ করে শোয় না গেরস্ত
দোয়েল চাল খায় আর শোনে
শিউলির খাস জমি দখল করে রেখেছে কারা
গাড়ি রাখছে নোংরা ফেলছে অদূরে
ফিনফিনে পালক ফেলে যায় দোয়েল
শিউলির কানের কাছে সাবধানে কান রেখে বলে,
দিদি, আপনার তবু একখানা জমি আছে
পায়ের তলে মাটি আছে
আমার তো উপরে অনন্ত আকাশ ছাড়া আর কিছুই নেই।
শিউলি ঘুমের কান্না বুকে শোনে কার কথা
সে তো জানে দেখতে যা কিছু আপাত ঠিক
সেগুলিই বেঠিক হয় বেশি।







চালিতাসুন্দরী

সে এক আশ্চর্যরকম গাছ
লালপাড় সাদা শাড়ি জড়ানো
সারা গায়ে সিঁদুর শাঁখা পলা
সে এক মায়াবৃক্ষ
ঈশ্বরের জন্ম হয় তার তলায়।
ঈশ্বরের মায়ের কঁকিয়ে ওঠা প্রসবযন্ত্রণা শুনেছে সে
চালিতাসুন্দরী কেবল জানে
স্বর্গে কেবল একচ্ছত্র সুখ নেই
সব আছে যা মানুষের আছে।








পুঁইমিটুলি


ছেলেটা অবিকল ছোট্ট দুটো চোখে
তাকিয়ে থাকে ধনতন্ত্রে
ছোটবেলার কথা মনে পড়ছে ওর মুখের আদলে
এভাবে সবাই তাকিয়ে থাকে শিশুকাল
পুঁজি ছাড়া কী বা করবে সে
দিনরাত খেটেই যাচ্ছে খেটেই যাচ্ছে
আর খাবার খাচ্ছে ভালোবাসার ঘোর
নতুন নতুন ব্যবসা দ্যাখে যখন
ছেলেটা শিশুকালের মতো তাকিয়ে থাকে সেদিকে
কী করে বাড়ানো যায় পুঁজি
আমার কেবল একটা গল্প মনে পড়ে যায়
একদিন সে আমাকে বলেছিল
মা বাগান থেকে পুঁইমিটুলি আনতে বলতো জানো
দুপুরে সেই দিয়েই ভাত খেতাম।
অভাববোধ না থাকলে ছেলেটি থেকে যেতে পারতো
মধ্যবিত্ত।