বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯

সমীরণ চক্রবর্তী



সমীরণ চক্রবর্তী

পথের শেষে তারার দেশে

মৃত্যুর রঙে আলপনা এঁকে দিই
নামাবলীর গায়ে,
অগরু আর চন্দনের প্রলেপ দিই
খইয়ের নধর শরীর জুড়ে।

দুটি সমান্তরাল রেখা এঁকে দিই
সমতল সময়ের বুকে,
পাশাপাশি শুয়ে থাক তিন ফালি জমি,
প্রথমটিতে রেখে যাই - পার্থিব সব
মাঝেরটিতে পড়ে থাক - নিষ্প্রাণ নিথর শব,
আর শেষেরটিতে...
তখনও অপেক্ষমান রাতের ক্লান্ত তারাটি।

সেই যে নদীটি...
যার সাথে প্রথম দিনেই হয়েছিল পরিচয়,
শেষের দিনে তার পাড়েই লিখে রাখি
পঞ্চত্বপ্রাপ্তির ইতি কথা।








রাত বিকল হলে

হাইওয়েতে বিকল হয়েছে রাত
অসহায় চাঁঁদ ঝুলে আছে
        মেঘ তারাদের নীরব সালিশি সভায়।

বাস, লরি, ট্যাঙ্কার সব...
        সব থেমে যায় সারি দিয়ে পথে,
থেমে যায় ধাবা-চটি, তড়কা-রুটি,
হুইস্কির পেগ, জুয়ার ঠেক
এমনকি ঘড়ির টিক্ টিক্
থেমে গেছে ঠিক।
স্ট্যাচু...স্ট্যাচু খেলছে সবাই
        আঁধার মায়াজালে...

হাইওয়েতে সচল ছিল শুধু পাগলীটা
        এ গাড়ি, ও গাড়ি
        একটু থেমে তার পরেরটায়
হন্যে হয়ে খুঁজছে কিছু বোধহয়...

নিমেষেই সচল হলো রাত,
        ঝুলে থাকা চাঁদ
        সচল হলো যা কিছু বিকল,
ধাবা-চটি থেকে ঘড়ির কাঁটা
        সব  সচল...
আর পাগলীটা, কি যেন নাম?... তামসী
সেই শুধু বিকল  হলো ঘোর তমসায়।







শোষণ যন্ত্র

'টার ভোঁ...
সাইরেনটা ক্ষীণ সুরে বাজে
ফুলমণি, ঝিমলি ছেলে কাঁখে
খালি পায়ে কাজে।

দরজা বন্ধ হলেই তরজায় মাত
চোখে ঠুলি, নেতা বুলি নিমেষেই কাত।

তালাগুলো আজ দেখি নতুন করে ঝোলে
চাবিটাই ভুল করে ছোঁ দিলো চিলে ।

বিশ রাউণ্ড ফায়ারিং শেষে
শহরে শান্তি এলে
বেয়োনেট ক্লান্তিতে
জেগে হাই তোলে।

কারফিউর স্তব্ধতা এ শহর চেনে
দাঁড়কাকে লাশ খোঁজে নেমে হাইড্রেনে।

বুলেট-ব্যালট শাসানি বোকা বাক্সের স্ক্রীনে
ভিলেনরাই ফিরে আসে ভগবান বেশে...
লাস্ট সিনে ।







সুন্দরবনের সুন্দরী

একটু বন্য হলে
শ্বাসমূল মাথা তোলে
সুন্দরী, তুমি রাত জেগোনা আর
চারদিকে ঢি...ঢি...
মুখ দেখানো ভার।

দক্ষিণ রায় ( বাঘ ) জেগে ওঠে
নড়ন চড়ন তার হলুদ ডোরায়
ঘুম ঘুম ভাব ঘাপটি মেরেছে জঙ্গলে
অকারণে অতিভোজন, হাতের নাগালে
কালু রায় ( কুমীর ) পিটপিটে চোখ জাগায়
হাই তোলে আর হাই তোলে...

ডেরায় তখন লাল চোখ নীল পাহারায়
শিকার শিকারী, সাচ্চা সওদা
রাত কথারা মাতোয়ারা
মৈথুন দাগ বড়ই বেয়াড়া
আর্তনাদের সাদা বিছানায়।







দেহ সুখ

রাত বাড়লেই জাতের জলাঞ্জলি
দিনে কেবল নামাবলী গায়
রাত গড়ালে কানু ব্রজবুলি
শরীর তখন অন্য কিছু চায়।

আধখোয়া চাঁদ এঁদোগলির মুখে
সরাইখানায় বিকোচ্ছে সব লাজ
রাত মেতেছে দেওয়া নেওয়ার সুখে
ভোগ লালসায় মত্ত সবাই আজ।