রবিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৮

নবনীতা সরকার


নবনীতা সরকার

আত্মশুদ্ধি

আগুন  ঠিক কতটা প্রশ্রয় পেলে
শীতল করে দেহ?

ঠিক কতটা উত্তাপে বরফ উষ্ঞ হয় ?

পোড়া কাঠ কয়লা ঠান্ডা জলের সংস্পর্শে
এলে যে সোহাগের ওম সৃষ্টি হয়-
সেই স্পর্শের আগুনেই লুকিয়ে থাকে প্রেম।

যে বেপরোয়া গতিতে কালবৈশাখী
উড়িয়ে নিয়ে যায় ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘ
আকাশের এ প্রান্ত থেকে সে প্রান্তে,
সেই উথালপাথাল মরিয়া আকর্ষনেই
লুকিয়ে থাকে প্রেম।

সমুদ্র যে ফেনিল জোয়ারে মুড়ে ফেলতে চায়
চাঁদ কে আর ঠিক একই ভাবে চাঁদ ও যে অভিকর্ষজ তাপে গলে
প্রবেশ করে অন্তঃসত্ত্বা  সাগরের দুধসাদা গর্ভে-
সেই প্রাকৃতিক রসায়নে সৃষ্ট তরঙ্গ ও প্রেম ই।

যে আগুনে নশ্বর দেহ পুড়ে ছাই হয়ে মুক্ত হয় আত্মা
হাজাগতিকের পথে সে আগুন তো প্রেম ই।

ঠিক কতটা প্রেম পেলে মৃত্যু ও সুখের হয়?

উওর-এক নিঃশ্বাস উন্মুক্ত বাতাস।






গেইলিক

একটা মিষ্টি প্রেমের গল্প লেখো তবে-
চৈত্র সকালের কাঁচামিঠে রোদ এসে পড়ুক
তোমার শিমূল গালে।
আমি আমার আদর মাখা
ঠোঁটের উত্তাপ বুলিয়ে পাঠাব সে রোদ
তোমার জানালায়।
তুমি বুঝবেনা, তবু শিহরনে
জেগে উঠবে তোমার রোমকূপ।
কচি ঘাসে পা রেখে বাহু ছড়িয়ে
বুকে মেখে নিও সেই ছোঁয়া।
আমের মুকুলে মুকুলে
আমি রেখে দেব একফালি রোদেলা চুমু।
তুমি চুপিসারে সবার অলক্ষে ছুঁইয়ে নিও সে মুকুল
তোমার লজ্জারাঙা গালে, চোখে, ঠোঁটে। কি পারবে তো?
আর আমি? বিষণ্ণ রোদের চাদরে ঢাকা
তোমার মোমগলা পিঠ বেয়ে
আদরের নোনাস্রোত হয়ে ঝরে পড়বে যে বিন্দু বিন্দু ঘাম,
আমি তাতে এঁকে দেব আমার দুর্বার আবেগের ঝর্ণা,
ঝরে পড়া সজনে ফুলের সোহাগী বিছানায়
তোমার কোমরবিছের নীচে আঙুলের আলতো
স্পর্শে গড়ে তুলব হেলেনিক ভাস্কর্য ।
গোধূলির আঁচে তোমার বুকের উত্তাল ঢেউয়ে
শরীর পেতে পড়ন্ত বেলার সাথে সেড়ে নেব
কাব্যিক সঙ্গম।
তুমি চৈতালি আতর মেখে সুগন্ধী আবেশে
চেয়ে দেখো তোমার দেহের মধ্যে এক নতুন দেহের উন্মোচন।






বৃষ্টির হাত ছুঁয়ে

বৃষ্টি আমায় অনেকটা প্রকৃতি করে তোলে।
যং ধরা তানপুরার সাথে ও সখ্যতা গড়ে ওঠে
বৃষ্টির হাত ছুঁয়ে।

প্রতিদিনের ঘামঝরা দুপুর,
মুঠোর ফাঁক গলে ফুরিয়ে যাওয়া সময়,
নিয়মের ঘরকন্না ,মুখোশের সুতোয় কাঁথা বোনা,
এবড়োখেবড়ো মুখে স্হির হাসির প্রলেপ-

তিলে তিলে আমি মূর্ত হই স্হবির হই।

আঁচলে, কাজলে,টিপে,  বিমূর্ত জীবন,
বৃষ্টি ছুঁয়ে দিলে আমি নারী হই
বৃষ্টি ছুঁয়ে দিলে আমি কবিতা হই। ।






মার্গারিটা

তুমি বোধ হয় দূরে থেকেই
পূর্ণতা চেয়েছো।
তাই এত অভিমানী আজ আমার বিছানা।
চোখ বুজলেই যাকে দেখতে পাই,
যাকে ছুঁতে পাই আঙুলে আঙুলে
তাকে তুমি আড়াল করবে এক চশমার সাহায্যে?

বেশ,তবে বাড়াও হাত,
এগিয়ে এসো একটু একটু নির্জনতায়
ঘুমঢাকা অমানিশায়-
নিশ্বাস চেপে ধরো,
তোমার হৃদস্পন্দন শুনতে পাচ্ছি।
আমি বিছানা ছেড়ে উঠে এসেছি।

একটা বাতাস এসে ছুঁয়ে দিল
তোমার গাল, মুখ, লুকোনো চোখ,
আর যা যা তুমি ঢাকো অজুহাতের কাঠি দিয়ে।

কই, এত চেয়েও
দূরে রাখতে পারলে কি আমায়??
মার্গারিটা??






ডিমার্কেশন

তারপর গাড়ি থামল নির্বাক চরে।
দুটি ট্রেন পাশাপাশি
চলতে চলতে হঠাৎ থমকে দাঁড়ায় দুজনেই।
সময় বলছে এগিয়ে চল।
তবু ভেতরে কি যেন দলা পাকাচ্ছে,
বেরিয়ে আসতে চাইছে।
আবার হুঁইসল।
তবু চাকা ঘুরছেনা।  কিছু ছাড়া পড়ছে যেন।
কি?
হঠাৎ মুহুর্তের চোখাচোখি তে
যে যুগের কথারা হাট বসিয়েছিল।
হারিয়ে যাচ্ছে কোথাও কাঁটাতারের দুপারে। ।