শ্যামলী বন্দ্যোপাধ্যায়
মেঘপর্বের কথকতা
১
আকাশ! তাহলে শিখেছে তুমি আজ, কাঙালিভোজ
বড় মহার্ঘ।
বৃষ্টিজলে তাই দিচ্ছ ইতি উতি ছিটে
ও ফোঁটা বুঁদ বিসর্গ।।
মন্দাক্রান্তায় ভিজেছে রামগিরি, ছিলে
রোম্যান্টিক যথার্থ।
নালিশে যদি কোনো প্রমাদ হয় তো
আমাকে মেনে নাও ক্ষমার্হ।।
২
সাদা মেঘ জল দেয়না দেখে
এক সে কবি পাঠান রিকোয়েস্ট-
কালো মেঘ আয়রে তোরা আয়,
আহ্লাদেতে কৃষ্ণমেঘরা জোটে।
সেদিন থেকেই বর্ষা নাকি এসে
জল ঢেলে দেয় আষাঢ় শ্রাবণ মাসে।
জমিয়ে খোলে বৃষ্টিমাসের গেট –
আফটার অল কবির রিকোয়েস্ট !
ভাববেনা কো, প্রমাণ
আছে তথ্যে -
যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তর পদ্যে।
আমিও জলে নাস্তানাবুদ,পাঠাব
টুইটার-
বলব মেপে জল দিও মেঘ, যেমনটা
দরকার!
৩
এক বর্ষায় রাঁধুনি আমার
ভেঙে এল তার ছাতা,
মোর ছাতাখান ধার দিয়ে বলি
ভোরোনা ছুটির খাতা।
সে আসে না আর, বৃষ্টির
দিনে
আমি থাকি ঘরে বন্দি,
মনে ভাবি বেশ এই তালে ওর
না রাঁধার পাকা ফন্দি।
অবশেষে দেখি এল একদিন
হাতে ছাতা দুইখান,
একখানি তার আমারই নিখাদ,
বলে বাকি কথা খান ...
‘আমার ঘরের আঙিনা ছাপিয়া
বৃষ্টির জলে এসেছে ভাসিয়া-
ছাতার গাত্রে দেখি ফুটে আছে
পাশাপাশি দুটি ফুল।
চারিদিকে দেখি কেউ কোথা নাই,
হাতিয়ে ছাতাটি বগলে দাবাই।
বল বউদিদি, আমার
কাজেতে
আছে কি কোথাও ভুল?
জলভাসি ছাতা হয়তো বা সেও
খুঁজছিল তরুমূল!’
আমি বলিলাম, ‘হে মাধবী, আর
দ্বিধা কেন মনে রাখ?
বাঁচাও তোমার মাথা-
ওটি পেলে বলে এই মওকায়
ফিরিল আমারও ছাতা।’