রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬

সাঈদা মিমি



এইসব দিন আর এইসব রাত
 (কাব্যগ্রন্থ: সব নিয়ে গ্যাছে এক সময়ের লুটেরা বাতাস)
সাঈদা মিমি
আমার ফানুস ওড়ানো সন্ধ্যা,
আমার দুঃখের ভাঙনশীল নদী।
কাউকে বলিনি-
কিরকম বেঁচে আছি!

প্রকৃতির সহজ স্ট্যাটিকটিস,
জল অগ্নির রসায়ন-
প্রোটোপ্লাজমে বায়বীয় স্বপ্ন,
নিউট্রন প্রোটন তৃষ্ণায়
দুইযুগের আদিম শরীর
লোকলজ্জা ভুলে অমাবশ্যায় শীৎকার, সব
নগ্ন প্রহসনের মত গ্রাস করে
রক্তের হিমোগ্লোবিন

আমার ফানুস ওড়ানো রাত্রি,
আমার দুঃখের বরফজমা নদী।





মগ্ন জীবনের ছবিগুলি
(কাব্যগ্রন্থ: ফারাও কুমারী)
সাঈদা মিমি

মগ্ন জীবনের ছবিগুলি
ক্যানভাসে, তুলে দিয়ে
সীতাকুন্ড পাহাড়ে যাই
আদিনাথে কোন
টেরাকোটা নকশার নাগদেব
নেই, তবুও ওর মৌণতা
ভালো লাগে শাকাহারী
বাতাসে সৈন্ধব লবনের ঘ্রাণ!
আদমের উত্তরীয় উড়ে
যায়, বর্ণিল পেষণের
হামানদিস্তা ভেঙ্গে, ফুঁসে ওঠে
লৌহ অজগর? সেই সন্ধ্যায়,
ভাটিয়ারি তীরে জোয়ার
এলে, বৃদ্ধ নাবিক তেড়ে
আসে অক্ষম ক্রোধে!
ঘন ঘন জ্বলে সস্তা সিগারেট




কীর্তনখোলা ২৫
(কাব্যগ্রন্থ: কীর্তনখোলা)
সাঈদা মিমি

সে কাহিনী জন্মান্ধ ঘরের
পুড়েছিলো তিলোত্তমা--
কপালের নক্সায় হায়েনার
রাত, সোনালী বীজের
দেশে একাত্তর আসে...




কীর্তনখোলা ২৬

তার ছিলো যুদ্ধযাত্রা, উদোম
ঘরের খাঁজে পড়ে থাকা মৃত
শিশু... বুড়ি মায়ের লাশ...
গৃহসুখী নারীটিকে খেয়ে গেছে
ধাবিত শকুন, সব স্বপ্ন
পিছু ফেলে মানুষটা
লড়েছিলো বহু স্বপ্নপথ.....




কীর্তনখোলা ২৭

অনেকটা বয়ে গেছে
কালের বাতাস, ক্ষত নিরাময়?
সব আঘাত! কখনো হয়না
দাওয়াই যে ক্ষরণের, রক্তে
ধোয়া পাপ, একদিন
বলেছিলো তারামন বিবি




শুশুনিয়া পাহাড়
(কাব্যগ্রন্থ: শুশুনিয়া পাহাড়)
সাঈদা মিমি

কালের সুড়ঙ্গপথে ভস্মমেঘ, হাজার মরণ
থেকে জন্ম নেয়া আকরিক ঝড়,
হারানো উপত্যকা... শিকারীর
চোখতুলে দাঁড়িয়েছে ক্রো-ম্যাগনন মুখ!
পূর্বজন্ম ছায়া স্পষ্ট হয়, ঢাল
বেয়ে নেমে আসা বুনোমোষ, ভল্ল হাতে
প্রস্তুত শুশুনিয়া পাহাড়ের অলীক যুবক...

অতীতের বনভূমি
কেঁপে ওঠে খ্রীষ্টতারা জন্মের আগে





একজন মৃতের ডায়েরী
(কাব্যগ্রন্থ: একজন মৃতের ডায়েরী)
সাঈদা মিমি
অলৌকিক, পথ করে দাও, বদ্ধ নিবাসে আমার ভয় করে, বড় ভয়- 
তলকুঠুরির যক হয়ে নয়, নীমের শয্যায় মৃত্যু আসুক
খোক্কসের দেশে এত বজ্রপাত হয়! নিরন্তর মরে অভুক্ত মানুষ, 
তাদের রক্তে রিরংসার বিষ নেই, পেশী ঝুলে যায় বোঝার আঘাতে... 
দন্তসুরেরা বেঁচে থাকেl আরাম আসন, 
চেখে নেয় আঙুরের মদ, নিষিদ্ধ ফল, কষা মাংসের ঘ্রাণ
আমাদের অনেক স্বপ্ন ছিলো, স্বপ্ন ধুয়ে দুঃস্বপ্নের নির্যাস! 
দ্রবীভূত সত্য, কোন যুগেও স্বাধীন ছিলাম না! এতগুলো মানুষের 
দূর্লভ রক্ত ঝরলো অর্থহীন? সম্ভ্রম মৃত্যকূপে
প্রহরার দরজায় রূপোর তালা, খিড়কি সিল করে দেয়া যদিও 
রোদ্দুর ঘুলঘুলি দিয়ে আসে, অনুশাসন ভাঙা চড়ুই, বিচিত্র বার্তাবাহক
অনেকবার ভেবেছি, ভেঙে ফেলা যায়? সহজ সমীকরণ- 
ভাঙতে ভালো লাগে, আগেও ভেঙেছি, এখন কেনো হাত পা অসাড় হয়ে আসে! 
মগজ জমে যায়? বলতে না পারার শোক 
একেকটা মৌন পাহাড় হয়, অবরুদ্ধ হতে থাকে পথ
কোনো পাহাড়ি দ্বীপের গান আর শোনা হবে না, ভালোবাসা 
যাপন করবো না ফানুসতারা রাতে- 
নুড়ি ছুঁড়ে একাগ্র জলের গায়ে ফেনিয়ে দেবো না কোনো ঢেউ
আমার শবাধার ফুলমুক্ত থাকুক, চেনা অচেনা ভীড়, আত্মজার কান্নামুখ, 
কেউ নয়, একা যাবো, কেবল 
আটজোড়া হাত আমাকে মাটির বিছানায় শুইয়ে দিক l মৃত্যুর রহস্যই 
জীবনের সম্পূর্ণ আস্বাদ, নির্মোহ নিয়তির কাছে আত্মসমর্পণ, এসেছি...
কোনো যুগে মানুষের বসতি ছিলো যেই ইতিহাসে 
মুছে দিয়ে গেছে "কাল " কিছু দায় অভিশপ্ত, 
চাপিয়ে দেয়া ঋণ, বোঝা, চাপিয়ে দিয়েছো যারা তোমরা কি পেয়েছিলে 
অমরত্ব লতা? কতটা পুড়েছো নিজে পুড়িয়েছো অন্যকে যখন? 
ভণ্ডসাধু, বলেছি তো, বলে যাবো যত জন্ম আসে