বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই, ২০১৬

সংযুক্তা মজুমদার



সংযুক্তা মজুমদার
মধুবন্তি
বৃষ্টি পরে টাপুর টুপুর
চোখের জলে বান,
গরম কফি, কবিতার বই
রেজয়ানার গান,
বৃষ্টি পরে টাপুর টুপুর
ভাবনার চুপ স্নান,
মেঘের গায়ে লুকিয়ে পড়া
হারানো অভিমান।
বৃষ্টি আজও এমন পড়ে?
তোমার বাড়ির ছাদে?
আজও বুঝে দুয়োরানী
একচালেতে কাঁদে?
নৌকা ভাসায় কি লিখে সে
কোন না পাওয়ার কথা?
লেখা হয়ে তাই উপন্যাসে,
সাজে নকশিকাঁথা।
বৃষ্টি পরে মন উদাসী,
হারানো দিন খোঁজে,
একতারাটায় মধুবন্তি
যত্নে মুখ গোঁজে,
বৃষ্টি যেন বন্ধ না হয়
শহর ভিজে কাক,
যাক হয়ে আজ,মেঘ টুকু তাও
এই শহরেই থাক।
.........................................................





ব্যাঙ কুমার
মেঘলা হাওয়ার স্নিগ্ধ সকাল
বৃষ্টি আয়ে তোকে ধরে
মনের মানুষ লুকিয়ে খুঁজি
চুপটি করে প্রানের পরে,

ভাবনাগুলো বেশ চলে যায়,
জলের সাথে ঘূর্ণি হয়ে,
চমকে ফিরি উতলে পড়া
দুধের পোড়া গন্ধে বয়ে।

শ্রাবণ তখন আপন ছিল
যখন তুই আমার ছিলি
শ্রাবণ বরই সবুজ ছিল
যে শ্রাবণ তুই দিয়েছিলি।

ব্যাঙ ব্যাঙ বলে ডাকতাম তোকে
ছিলি আমার রাজপুত্র
ব্যাঙ ধরে এনে দিলি একদিন
বললি, “ নে, প্রেমের সুত্র।

সব চেয়ে প্রিয় বন্ধু ছিলি
কেন যে তুই হারিয়ে গেলি
বললিও না একবার ফিরে
কি ছিল এই অভিমান ঘিরে।

আজও বুঝি কথাও ভাবি
এখনো আছে জীবন পরে
আসবি ঠিক একদিন তুই,
শতাব্দীর শ্রাবণ ধরে।
.........................................................






বৃষ্টি
বৃষ্টি  তোমায় মনে করেই ঝরে,
আমার চোখে কিম্বা মেঘের ঘরে,
বৃষ্টি তোমায়  ভীষণ ভালবাসে,
তাইত এমন অঝোর ধারে আসে।

ছোটবেলার কথা মনে পরে,
কচুরিপানায় করমচাগুলো ধরে,
ভিজতে ভিজতে ছুটে  বেড়াতাম কত
ঝোড়ো  হাওয়ায় ছেলেবেলা উন্মত্ত্য।

সাথি ছিল পাড়ার কুকুর বেড়াল,
সাথি ছিল মনের কনের রাখাল,
কাদামেখে গরাগরি খেয়ে সারা,
দুষ্টু মেয়ে বলত গোটা পাড়া।

এখনো কাদাজলে ছপছপ করি,
লুকিয়ে লুকিয়ে , পাছে ধরা পরে যাই
এখনো পাতায় পাতায় কবিতা লিখি,
তোমার নামে নৌকা আজও ভাসাই।

এখনো সেই হলদে সাড়ি পরে,
নিজেকেই আমি দেখি তোমার চোখে,
এখনো বৃষ্টি চোখ ভাসিয়ে দেয়,
যেখানে সেখানে, কি জানি কি বলে লোকে।

সেই পরোয়া তো কবেই ছেড়েছিলাম,
যেদিন প্রথম তোমার হাত ধরে,
মনের শুখে বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম,
জমেছিল ভিড় বাড়ির পাড়ার মরে।

তবুও তোমার হওয়া আর হলনা ত,
স্মৃতিতেই গোটা জীবনটা কেটে গেল,
আসবে বলে অপেক্ষায় আমি আজও
হাজার শ্রাবণ এখনো যে এলোমেলো।
..................................................






জলছবি
বৃষ্টি ভেজা স্তব্ধ বিকেল,
আঁধারের ঘেরাটোপে,
মেঘকে বলে আজ নিজেকে
দিলাম তোমায় সঁপে,
জলছবি? না ছবির মত জলেরই আলপনা,
মেটাবে আজ তৃষ্ণা তোমার,
করবে যে উন্মনা।
সেই পুরনো ঘষটে যাওয়া,
আরশির ভাঙ্গা কোনা,
জলের টোপর তার ওপরে
ভাসায় কচুরিপানা,
এক টোকাতেই সবই উধাও
শুধুই  জলের ঢেউ,
মেঘ ভেসে যায়, আকাশের গায়ে
ডাকছে বুঝি কেউ।
শ্যাওলা পোড়া পুকুর পাড়ে,
ঘাটের সিঁড়ি ধরে,
কলশি ভাঙায় বৃষ্টির জল,
কেবল উপচে পরে,
বুনো গাসের ঘন বুনটে,
ভাঙা টুকরো বাঁধা,
জলপরী তাতে হাত বুলিয়ে
নাম লিখে যায় রাধা।
........................







ভালবাসি
এই ঝিরঝিরে বৃষ্টি
ভালবাসি
ভালবাসি আমি
পাখিদের কলরব
গাছের পাতার
জলঝরা ভালবাসি
ভালবাসি আমি
তোমার যা কিছু সব।

ভালবাসি আমি
জানালায় ভেজা মন
কালো মেঘের বারান্দা
ভালবাসি
ভালবাসি আমি অকারণ
বেথা যত
সেই সব কথা
লোকাতেই ভালবাসি।

ভালবাসি আমি
তোমার খোলা হাসি
আমার কানুর
বাঁশি আমি ভালবাসি
ভালবাসি আমি
এই কবি  কবি সাজা
এই বিশ্বের সবই যে
ভালবাসি।

ভালবাসি আমি
এই পাগলামি আমার
তোমার হারানো গন্ধ
যে ভালবাসি
ভালবাসি আমি
তোমায় অগো প্রিয়
তোমার ভালবাসাকেই
ভালবাসি।

...