সোমবার, ২১ মার্চ, ২০১৬

কৌশিক গাঙ্গুলি




" যজ্ঞ "
কৌশিক গাঙ্গুলি

অলৌকিক শক্তি নেই ,
আছে মাটির ওপর পা ,
বুজেছি বেঁচে থাকাই সার কথা এ সংসারে ।
প্রতিদিন বিবেকের কবর খুঁড়তে বসি –
যুগাত্মা ক্ষমতাবানদের পায়ের তলায় ।
তবুও মাথা উঁচু করে থাকার ইচ্ছে জাগে ।
আমার তূণীরে কোনো ধাতুর অস্ত্র নেই ,
আছে বিবর্ণ পান্ডুলিপিময় রক্তাক্ত কবিতা ,
তাতে লেখা অসহায় মানুষদের জীবনকথা ,
আর এক প্রতিরোধ যজ্ঞের আয়োজনে মাতে এ যুগের পরশুরাম ।





'স্বয়ংসিদ্ধ '
কৌশিক গাঙ্গুলি

বেশ করেছি গড়েছি ,
বেশ করেছি ভেঙেছি -
বেশ করেছি হাত কেটে রক্তপাত ,
আসলে আমি স্বয়ংসিদ্ধ , কবি ও কারিগর ।
নেই হুশ , নেই খেয়াল
সব স্বপ্ন দিয়েছি তোকে ,,,
অভাবের আগুন আর স্বভাবের ঝড়
জ্বালিয়ে দিয়েছে তোকে পাই আনন্দ ,
তুই যন্ত্রনায় কাতরাবি , বাতাসে পোড়ার গন্ধ ।
বিচিত্র উল্লাসে উড়িয়ে দিয়েছি পান্ডুলিপি ,
ছিঁড়েছি যত চিঠি আর একমুঠো সোনারোদ .....
আয় দুজনেই কাঁদি , দুজনেই হাসি ,
সব শোধবোধ ।







'ক্রীতদাস '
কৌশিক গাঙ্গুলি

এ কেমন দ্বীপ ,এখানে জল নেই শুধুই দীর্ঘশ্বাস ,
দাসপ্রথা নেই তবু হাতে তোলে শৃঙ্খল ।
স্বেচ্ছাচারী বৃষ্টিকে করে আহ্ববান নারী ও জঠরের সন্তান ,
বেদনায় কাঁদে মাটি , ক্ষত- বিক্ষত শরীরে প্রলেপ পড়েনি কতোদিন ?
মাতৃস্নেহধারা বাঁচায় শুকনো শরীর যেন বটগাছ ,
অ্যাতো ভাঙা উনুন , রেশন আসেনি এখনো লকআউট ।
এ যুদ্ধে পরাজয় লেখা হয় গোপন চুক্তিতে ,
ব্যর্থ গর্জন মানুষখেকো মানুষের হাসি গদিতে গদিতে দুঃশাসন ।
এ দ্বীপে যদি বাঁচার ইচ্ছে থাকে
তবে গলায় পরো বকোলেশ নাগপাশের বন্ধনে দেখো না প্রিয়জনের লাশ ,
নতজানু হয়ে থাকো । দীর্ঘশ্বাস শুধু শোনো ।







"কৌশক গাঙ্গুলির কবিতা "
ক-
দলতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদী
জীবনে খালি রঙ বদলায় । প্রতিবাদ এখন আমবাতের মতন চুলকায় , ক্ষমতায় যেই থাকে , সেই রাবণ হয়ে যায় ! উন্নয়ণ ঢপে হোঁচট খায় যাত্রাদলের বিবেক মাষ্টার.... গাঁজা ,মদ না । দাঙ্গা বা রেপ নয় , অরাজক মাতৃভূমি না , শুধু গণতন্ত্রের আর কথা বলার স্বাধীনতা চাই ।

খ -
সক্রেটিস বলেছিলেন তিনি জানেন ; তিনি কিছুই জানেন না আর এদিকে চায়ের দোকান বেঞ্চিতে আলোকিত করে বসা সবজান্তা পবিত্র পাপীরা । রাস্তায় কুকুর ,কাক ও আবর্জনা বাড়ছে আর এদিকে কাজের বদলে অকাজ , শান্তির বদলে সন্ত্রাস , উন্নয়ণের বদলে করের টাকায় খয়রাতি বাড়ছে , আমাদের বেগুন ভবিষ্যতে শুধূই অন্ধকার .....


'




যন্ত্রনা
কৌশিক গাঙ্গুলি

আলথালু বেশে সারা কুরুক্ষেত্রে অসংখ্য শবের পচা মাংস ঘাটে শিয়ালেরা ,
আজ মহাভোজ উল্লাস নারকীয় ।
রক্তস্রাব , রক্তস্রাব ঝরুক তোর জংঘা থেকে ওরে প্রেতিনী ,
প্রসব করবি যখন মৃত সন্তান
দাহ বিনা ভাসাবি নদীর জলে হিংস্র কামট খুবলে নেবে তার হৃদপিন্ড ,
যন্ত্রনা শুধু যন্ত্রনা উঠুক নাভিশীর্ষে ,
আঁকাবাঁকা শিরায় , রক্তকণিকায় ,
তবু পাবিনা শান্তি এই পোড়াদেশে
ধর্ষিত সমাজের লজ্জিত ফলাফলে জন্ম নেয় বেজন্মারা আর কেঁদে চলে অসহায় ধরিত্রী ।