শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সৌমিত্র চক্রবর্তী


সৌমিত্র চক্রবর্তী

জলবিহার

জলীয় নীলচে কথা উঠলেই
ঘুম তাড়া করে নিষাদবেলা 
জলের হাতে পায়ে
কালাসনিকভের হুমকি
আয়নার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে
ফেরেস্তাদের ছায়া
বিষাদগ্রস্ত ভাঙাচোরা অমেরুদন্ডী
হওয়া না হওয়ার মধ্যবর্তী
নোম্যানসল্যান্ডে পরে থাকে
আমারই ঘুমন্ত শবদেহ,
চারপাশে জলজ উচ্ছ্বাস।
জল ছুঁতে ইচ্ছে করে বিকেল হলেই
জলার্ক শরীর আর খুফিয়া মন জাগলিং করি
দু হাতের চমকদার ব্যালেন্সের খেলায়;
আজলা বিছিয়ে ধরি জলের চোখে স্তনে
ফ্লাওয়ার ভ্যালির তলপেটের ঢাল বেয়ে
নেমে আসে কালো জলজ মৃত্যু।







ময়নাতদন্ত

যদিও বুজুর্গ বলে গেছেন
যা কিছুই উৎপন্ন হয় সবই ফসল নয় এবং
অবিশ্বাস একরকম মানসিক বৈকল্য
চরে বেড়ায় একলা নদীচরে কিম্বা
নদীর পাগলাটে কামুক রতিক্রীড়ায়;
কখনো সখনো ক্লান্ত ছায়া দু হাতে সরিয়ে
বলতেই হয়, 'হ্যাঁ থাক আজ সব অপ্রিয় কথা,
অন্ততঃ ঠোঁটের গায়ে বহাল থাক
প্রিয় সময়ের নগ্ন চুমুর স্বাদ:
তারপর! নদী হেঁটে চলে গেলে
গতসময়ের সমস্ত রাস্তা জুড়ে পড়ে থাকে
মেক্সিকান মরুভূমি আর ফেলে যাওয়া
জোড়া হাতের ছায়া।
জলপ্রবাহের দিন কেটে গেলে
নদীর চর ধরে রাখে শুকনো ডালপালা
কিছু উড়ো ছাই আর
ফেলে আসা গৃহস্থালির যান্ত্রিক স্মৃতি...
শুধু কিছু মুহূর্তে ঝড় এলে
নিজের প্রেতকে প্রবোধ দিতে হয়,
হতভাগা এসব কল্পছবি
তোর ছিলো না কোনোদিন,
শুধু ছুঁয়ে চলে গেছে ভাসমান মেরুদণ্ড
ভয়ানক আত্মবিস্মৃতির কালো ছায়ায়;
ঋদ্ধ হতে হতে ব্যবস্থার শরীরেও
একসময় গ্যাংগ্রীন ধরা পড়ে
পোস্টমর্টেমের ছুরির ভাঁজে
মোলায়েম দক্ষতায় প্রান্তরেখায়
উদ্দাম নাচে মাতে ছৌ মুখোশ,
তান্ডব থেমে গেলে সাক্ষী থেকে যায়
নাবাল উদাসী মুখ।








পৃথিবীর মৃত্যু

বাইরে তুলকালাম ঝোড়ো বৃষ্টির
সমস্ত দরজা জানলা
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলেও
গুমগুম আওয়াজ
আটকানো যাচ্ছে না কিছুতেই,
আব্রহ্মান্ড কাল জ্বরের কবলে,
সূতিকা রোগে আধো অচেতন পৃথিবী
সরকারি হাসপাতালের মেঝেয় একলা,
কোনো ডাক্তার দেখেনি তাকে,
সরকারি নথিতে তার নামই ওঠেনি;
ব্যারেজের খোলা গেট পৃথিবীর যোনি
বেয়ে গলগল রক্তের ঢল,
পাশে শোয়া সদ্যোজাত কে
কুকুরেরা ছিঁড়েছে তিনদিন হলো,
তীক্ষ্ণ জ্বরের হুলে বিদ্ধ যুবতী পৃথিবী
মৃত্যুর দিকে হামাগুড়ি দেয় অবর স্বপ্নে।







পায়ে পায়ে

হাঁটি হাঁটি পা পা...
পায়েরা চলে গেলে
পড়ে থাকে একদলা নখ।

ম্যানিকিওরড আগায়
গত জন্মের সুখসময় ফসিল,
ফোকলা মাড়িতে পচা খাবারের
মাঝে আটকে থাকে বিতৃষ্ণা।

মাঝরাত্তিরে ঘুমন্ত শকুনির গলা
উগরায়, চেবায়, জাবর কাটে
দক্ষিণী বিষাদ।







আমার রাখী রাখীর আমি

রাখী এলেই উদাসী বেহালা
রজন লাগায় স্মৃতির তারে,
কত ভালো ছিলো সেই ছেলেবেলা
বেদনাবিদ্ধ নিঃশ্বাস ছাড়ে।

এতো ভালো ভালো রাখী তো ছিলনা
ছিলনা অর্থ ক্ষয় করা বল,
আমাদের ছিলো নির্মল হাসি
মেঘ প্রান্তর জঙ্গল জল।

শান্ত রঙিন পাকের দড়িতে
এক উজ্জ্বল ঝিকমিক তারা,
কিছু দুষ্টুমি কিছু আনন্দ
বাকি আহ্লাদ ভালোবাসা ভরা।

অনেকদিনই তো সে স্পর্শসুখ
উধাও হয়েছে দিগন্ত পার...
আমিও ভুলেছি রাখীর আদর
রাখীও ছেড়েছে এ হাত আমার।