শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

মৌসুমী ভৌমিক


মৌসুমী ভৌমিক

বাকি পথে     

আঁধার রাতের কথারা জেগে থাকে
নিশ্চুপে কত কী বলে যেতে যেতে
ছুটে যাওয়া তারারা যখন
লিখে যায় ব্যথা আকাশেতে
পুরনো দিন ভুলে নতুন গান গেয়ে
ভোরের আলোয় জেগে ওঠে পাখি
শিশিরগন্ধী সকালে চোখ মেলে
ভাবে আরও কত পথ যে বাকি।

বাতাসের গায়ে ছুঁয়ে থাকে সময়
আলতো করে ভালবাসে প্রতিনিয়তই
যদিও ভাঙন থাকে গা জড়িয়ে
তবুও ভাললাগে তো অনেককিছুই।
সেই সুরে সুর মিলিয়ে লিখি রাখি
সবুজ পাতায় স্বরলিপি তার
বাকি পথে হেঁটে যেতে যেতে
গান গেয়ে নিতে পারি যদি আরবার!







জেগে থাকা মৃত্যুর কাছাকাছি

জেগে থাকা মৃত্যুর কাছাকাছি
কিছুটা তো জেনেই। রঙ কিংবা দল বাছাবাছি।
পরোয়া নেই মৃত্যুর। সাথেই যাবে বুঝি লাভের খতিয়ান !!!
কি বিচিত্র এ দেশ!  কার প্রাণ লয়ে কেবা হয় লাভবান !
শহরে গ্রামে ভোটের কালিতে লেখা হয় মৃত্যুর পরোয়ানা
জেনেশুনে খুঁজে খুঁজে খুঁড়ে তুলি মৃত্যুর সীমানা।







শৈশব

গ্রামের কথা হলেই শৈশব ঘুরেফিরে আসে
খোলা আকাশ, অগাধ বাতাস
টলটলে নদীজল, সেই বটতলা
বিমল খুশি
হাত বাড়িয়ে ছুঁয়ে নিই শৈশব

শৈশব সোনারঙে জ্বলজ্বল করে
স্মৃতির পাতায়।






.
অধরা ঈশ্বর

যুগ যুগান্ত ধরে মানুষ খুঁজে গেল
অমল বিশ্বাস, স্বচ্ছ আশ্বাস।
নিজের ভেতরের যে নন্দিত কানন
বিমূর্ত আত্মদর্শন, তার খোঁজে পার করে
ফেলে আধেক জীবন।

দোদুল্যমান মন, কেঁপে কেঁপে বেঁচে থাকে
বিখন্ডিত হৃদয়ের নিমগ্ন যাপনে।

আলো আঁধারি অধরা ঈশ্বরকে বোঝা কার সাধ্য।







রাতবাঁশি

সন্ধে হলেই রাতবাঁশিটা ,
          হুইসেল দিতে শুরু করে
সুরটা গভীর হতে থাকলে
                        জোনাকিরা পাখা মেলে।
আঁধারের বুকে সহচরীর
         নামটা
          লিখে ফেলে অনায়াসে।
তবু বিজয়কেতন ওড়ে না।
           একাকী চাঁদের যে
                     রাত আকাশে আধিপত্য।
রাতবাঁশির সুর বেজে যায়
                         বেজে যায়
                             আঁধারছন্দে অবলীলায়।