বৃহস্পতিবার, ২১ জুন, ২০১৮

দিশারী মুখোপাধ্যায়



দিশারী মুখোপাধ্যায়

মেরুদন্ড

আমাদের পৃথিবীর মধ্যখানে পোঁতাছিল
একটা শালবলী
আমার ঠাকুরদার ঠাকুরদাও দেখেছেন
কে পুঁতেছিল ওটা জানতেন না কেউ
রোজ সকালে সকলেই ওর সমান্তরালে দাঁড়াতো
যা কিছু সিধা রাখার দরকার আমাদের
তূল্যমূল্য বিচার হতো
নিজের প্রহরায় নিজে সতর্ক ,নিজে নিজে
অষ্ট অঙ্গ সমেত প্রণতি শিখতেন তারা
ওই শালবলীর সামনে

আমাদের তখন ছেলেবেলা
অবাক চোখে দেখতাম
ওই শালবলীর মাথায় পাখি বসতো
পাখির ডানায় বসতো আকাশ
ইচ্ছে হলেই ,পাকা পেয়ারার মত ,হাত বাড়ালেই
পেতে পারতাম তাকে , কিন্তু
ঠাকুরদা বলতেন আকাশ আমাদের পরজীবনের বাড়ি
পাড়তে নেই ,ভাঙতে নেই ,নষ্ট করতে নেই
হয়ে উঠতে হয়

আজ আমরা বাল্মিকী নই তবু
সবাই বল্মীক






পাথর পূজা

পাথরের মাথায় আমি জল ঢালি প্রতিদিন
নির্দিষ্ট সময়ে

কাগজে পড়ি ,খবরে শুনি
আজকাল নাকি মারা যায় রোজ রোজ
লতাগুল্ম ,বনস্পতি ,পাখি ও আকাশ
জলের অভাবে
অনেকেই দুঃখ করে ,ভনিতা করে ,কষ্ট পায়
সে কষ্ট আমাকে ছোঁয়না
আমার পাথরে আমি রাখিনা কোনো জলের অভাব

কে কোথায় কবে কেন মারা গেছে - এই পরচর্চা
চরিত্রবানের কাজ নয় ,আমি জানি ,তাই
মৃত্যু যার অনিবার্য
তাকে বাঁচাবার জন্য পন্ডশ্রম না করে
কেবল পাথরের অনুগত থাকি







মৃত্যু

আজ খুব ভোরবেলা
পাশের গলিতে এসেছিল সে
ফিরে গেছে এই গলির রাস্তা দিয়ে
এখনো পায়ের ছাপ স্পষ্ট ফুটে আছে
চিঠি লিখে রেখে গেছে জলের শরীরে
ঠান্ডা কালো নীরব জলের অনুচক্রিকায়
গুলে রেখে গেছে তার কীটনাশক প্রেম

আজ খুব ভোরবেলা
বাতাসে তখনো লেগে আজানের ঢেউ
অনেক শাঁখের ধ্বনি আতর আবেশে
ঘড়িতে তখন সাড়ে পাঁচ

আজ খুব ভোরবেলা
দীর্ঘ একটি রাত নেমে আসতে চেয়েছিল
লোকটির লেখার খাতায়






ধারা

এখন এখানে অষ্টাদশী শ্রাবণের বৃষ্টি
এই বৃষ্টির জলের ভেতর যতটা সিক্ততা আছে
তা তোমাকে আপাদ মস্তক দিলে পরিমাপ হতো
কিন্তু সে উপায় আজ চারকোল বা ডিজিটাল
কিছুতেই বিন্দুমাত্র নেই
সেই নেই তার মাত্রা মাপে এতটাই বেশি
মানুষের লাস ভেসে গেলে দুয়ার দিয়ে
মানুষের নজরে পড়েনা
অথবা নজর তার নষ্ট হয়ে গেছে

এখন এখানে বৃষ্টি যতটা আদুল
ততটা কি অন্য কোনো দ্রাঘিমাংশে কখনো হয়েছে কোনোদিন
জানা নেই
জানবার বিধি নেই
ঝোপেঝাড়ে পাতা ও পল্লবে বৃষ্টি সরগমে তুফান
সে কতটা ভাসাতে পারে
ডোবাতেই বা পারে কতটুকু
তুমি ভিন্ন প্রমাণের বিকল্প নেই






একটি বৈধ খুন

সংসার-জীবন চাকরি-জীবন ব্ন্ধু-জীবন
সবই চলছে ঠিকঠাক
কোমরের ব্যথাটাও ইদানিং কম

বাবার সম্পত্তি শ্বশুরের সম্পত্তি
আর কিছু উপরি পাওনা
সামলে চলছি যথাযথ
সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে
ছেলের বাবা আর প্রতিবেশীজন
পৃথিবীর সব রাস্তা
রেল, সড়ক এবং বিমানে
যাওয়া আসা আছে নিয়মিত

যা ছিল সব রেখেছি
যা আছে সব রেখেছি
যা আসবে সব স্বাগত
শুধু সেই আয়নাটি ভেঙেছি
ভেঙে চলেছি অবিরত
যে আমার প্রতিটি বিম্বের প্রতিবিম্বে
দেহ মন সর্বস্ব