শনিবার, ২১ মে, ২০১৬

রিয়া চক্রবর্তী




ইচ্ছা মৃত্যু
রিয়া
ইচ্ছে ছিলো খুব সকালের সোনা ঝরা রোদ হব,
ইচ্ছে ছিলো বৃষ্টি শেষের একলা দুপুরে
হেঁটে যাব জল থৈথৈ পথ ধরে বহুদূর।
কখনো ক্লান্ত হয়ে বিশ্রাম নেবো অচেনা কোন গ্রামের
শাল, মহুয়ায় ঘেরা কোন মাটির দাওয়ায়।
ইচ্ছে ছিলো সুখের সুরে সুর মিলিয়ে
নতুন রং এ রাঙ্গিয়ে নেবো নিজেকে।
এখন যাবতীয় ইচ্ছে গুলোকে বাক্স বন্দী করে
তোমায় উপহার দিয়েছি - আর
সুখকে ন্যাপথলিনে মুড়ে গুছিয়ে রেখেছি
পুরনো আলমারির দেরাজে।   
----------------------------






স্তব্ধ হোক এ হত্যাউল্লাস
রিয়া চক্রবর্তী
আজ এই বীভৎস হাসি প্রাপ্য ছিল ওদের।
নপুংসক বীর্যের লেলিহান শিখায় ঝলসে গেলো
ফুলের জলসা,
এই শেষ নয়, অসংখ্য
ওই রক্ত নদীর বন্যায় মাতৃ জঠর
শব্দহীন, প্রাগৈতিহাসিক গুহায়
সময় মুখ লুকিয়েছে, লজ্জায়।
তবে জানি আসবেই সেই সূর্যসকাল -
যেদিন পৃথিবীর সব জহ্লাদ
ভালোবাসার শিলালিপিগুলো
সমুদ্রের গভীরে গিয়ে তুলে আনবে
পৃথিবীর সব মারণাস্ত্র
সেদিন শিশুদের
পায়ের কাছে এসে ফুল হবে
আর পৃথিবীর সব ধর্ম একসাথে
জ্যোৎস্নার গান গাইবে,
পৃথিবী শত্রুহীন হবে।
-----------------------






মনের তুমি
রিয়া চক্রবর্তী
আজকাল আমি বড় বেশি অস্থির হয়ে উঠি,
যদিও এখন আমার আরো বেশি চুপচাপ ধীরস্থির থাকার কথা।
তবে কি নিজের অজান্তেই ? একটু একটু করে বদলে যাচ্ছি রোজ?
অবশ্য আজকাল সবকিছুতেই এক ভালোলাগা মিশে থাকে।
আমি রোজই আমার ঘরের প্রতিটি কোণের সাথে কথা বলি,
দূরের ওই আমগাছটাকে রোজ ঝাঁকড়া নিমগাছের গল্প বলি,
ছাদের কার্নিশে বসে থাকা পায়রাদের আমার গল্প বলি -
আর আকাশভরা তারাদের মাঝে নিজেকে হারাই।
অদ্ভুত ভাললাগায় মন ভোরে ওঠে
হালকা একটা হাসি খেলে যায় ঠোঁটের পাশে।
আজকাল সময় আমাকে তুমি ছুঁয়ে থাকো,
তাই মনে হয় কাল-আজ-কাল নিয়ে
তল খোঁজ ডুবুরির মতো সময় ভাবায়।
ডুবে থাকি তোমাতেই বিশ্বাসে-ভালোবেসে
ঠিক কি পেয়েছি,কি পাইনি, কি যে চেয়েছি, কি চাইনি-
কোন পথে মাঝপথ কাঁটাগুলো শেষ।
আজ কেন মনে হয় সামনের কোন পথের বাঁক পেরলেই,
সেই মেঠো পথের সেই আলপথ যারা
কবে থেকে পথ চেয়ে বসে আছে,
যে পথের মাঠে বাজে বাঁশী , মন কেমন করা সুর।
জানিনা আমার সেইখানে যাওয়া হবে কি না,
আলোটা যদি নিভে যায় সে বাঁকের কোনফাঁকে?
যদি দিকভুল করে ফেলি আমি?
যদি কোথাও হোঁচট খেয়ে হৃদয় চিরে যায়?
যদি আমার আর যাওয়া না হয় সেই স্বর্গপুরিতে? মন?
রাত ফিরে আসে আমার এই চিলতে ঘরটায়।
পাশের বাড়িতে রেডিওয় গান "তুম বিন জাউ কাঁহা" লতাজি গাইছেন।
আমারও তো ওই একই কথা মন,
তাঁকে ছাড়া আমি যে কিছুই ভাবতেই পারি না।
গাঢ় থেকে গাঢ়তর হয় ভালোবাসার রং।
----------------------------------






তোমার জন্য
রিয়া চক্রবর্তী
আমার ভাল লাগা-বিশ্বাস-কষ্ট-ধৈর্য, সব টুকুই
তোমাকেই দেবো, শুধু তোমাকেই দেবো আমি।
যে কষ্টেরা বৃষ্টি হয়ে নেমেছিল
আমার দুচোখে,সেইটাও রেখে দেব এখানে,
তোমার আমার মাঝখানে।
ঝলমলে সকাল-মন কেমন করা দুপুর-
দুষ্টুমি মাখা বিকেল-গভীর ঘন রাত...।

পরিচয়ের বড় বেশি সীমাবদ্ধতা, বড় বেশী ক্ষুদ্রতা।

এই শেকলের বাঁধা গন্ডি পেরিয়ে,
দম বন্ধ করা পরিবেশ থেকে,
তুমি নিয়ে যেও তোমার মনমহলে।
রোজ সন্ধ্যায় থাকো আমার সাথে, আমার ছাদে,
বৃষ্টি বা মেঘ সাথে ভোর নিয়ে...

আমাদের চোখের পাতায়,শুরু হোক অভিসার।
-------------------------






মুহূর্তেরা
রিয়া চক্রবর্তী
আঘাত পেলে হৃৎপিণ্ডের কিছুফোঁটা
রক্তের ধার দেয় দু' চোখকে
রক্তের রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জল
গড়িয়ে পরে হিমালয় থেকে সাগরে
**
সকালবেলায় খবরের কাগজেই
অফিসের মাছের ঝোল ভাত
পাড়ার জঞ্জাল সাফাইয়ে কুকুরের লাশ
জীবন এখন দুটাকায় বিক্রি হয়।
**
সহজ সরল গ্রামেও এখন
আণবিক বোমার আতুর ঘর
সভ্যতার রকেট মঙ্গল গ্রহে
আমলাশোল এখনো ধুঁকছে
**
ঘুমপাড়ানির গানে জেলের নিরাপত্তা
রাস্তায় বাসন ধুতে ব্যাস্ত শিশুদিবস
নতুন নতুন শিল্প শিলান্যাসে

মুখ থুবড়ে পড়ছে জয় পতাকা