বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯

গৌতম কুমার গুপ্ত


গৌতম কুমার গুপ্ত

ইতিকথা নয়

আনুগত্য বাজে না হার্দিকে দ্যাখো
ঘৃণা ও ভালবাসা নিয়েছে তবু
স্বীকার্য গ্রীক আধিপত্য যেন সাম্রাজ্যে সোপর্দ

আলেকজান্ডার বীর্য, পুরুরাজ পৌরুষে সশস্ত্র
বশ্যতা নয়, চোখে চোখ ঈর্ষাপ্রসূত
আনত নয়, কায়েম অধিরাজ সিন্ধু ও ঝিলম

বিদগ্ধ রাখে মেধাবী মনন
ছুঁয়ে দ্যাখো শাসনের তাপিত শ্বাস
নরমে গরমে উষ্ণ চলমান বান্ধব

আমৃত্যু রেখে যেতে যায় ইতিবাচক
ধারাবাহিক, সমাপ্তি ইতিকথা নয়






অসুখ

নিমিত্তমাত্র অসুখের জলে
অধরা পরিধি পরিসীমা,
        উষ্ণ অথবা আর্দ্র ; স্পর্শরহিত।

কে যেন নিকটতর, আহ্বানে উচাটন 
        শ্রুতিহীন,অবোধ ককলিয়া
ডুবন্ত ছিল না কিছু?
     অদৃশ্য চলাচল, সম্মুখে কে বা কারা!

শুধু সক্রিয় ল্যাক্রিমাল
    জলের ভেতরে জল
সমুদ্র ঝরে শোকে,তাপপ্রদাহে,
সেতু ও সাঁতার নেই, অবশ শতদল

ডুবে আছে ব্যাধির জলে
গণক তাপমানে, নির্ঘন্টে আরোগ্য খোঁজে
ফুটে অঙ্ক ধারাপাত, অনিদ্রার রাত

ট্যাব অথবা ক্যাপ,আজ শরীরী বিষপ্রিয়
আকাঙ্ক্ষায় যদি নির্বাপণ হয়
আগামী অক্ষরে যথার্থ সফল পরিত্রাণ।








লব হর

একবিন্দু রক্তফোঁটা চুঁইয়ে পড়ে যখন তখন
স্বাদে গন্ধে আমার গ্রামশহরের কথা কল্লোল
মায়ের ডালপালা জ্বালানো ভাতের ধোঁয়া আর
বাবার কয়লা নিংড়ানো শ্রমজ নিদানে অন্নসুখ

আমি শব্দ নিংড়ে অর্থবহ করি নিষ্কর্মা অনর্থের
স্বর্ণখচিত নয় বায়ব অলংকার দোলাই কাগজে
কেউ তুমি বলে আহা,উহু নিত্য অম্লমধুর  বেশ
কব্জির শিরা ততোধিক জেগে ওঠে স্বেদে গন্ধে

মুছে ফেলি আবর্জনা পরক্ষণেই জমে ধুলো
সচেষ্ট সহজাত আমার সকল আকার প্রকার
কাগজের ছোঁয়ায় মুহূর্ত লিখি ধ্বনির বায়োগ্রাফি
আন্মনার পাঁজাকোলে ঝুলে আছে আমার ভগ্নাংশ






স্টান্স

আয়নায় যাবো মুখোমুখি হবো তার
দেখে নেবো বিন্দাস সাদা কালো ককটেল
কুড়োবো দৃশ্য চোখমুখ রূপালী গোঁফের সন্দেহ
সন তারিখ কোথাও থেমে আছে যদি!

জুলফির বসন্ত খুঁজে নেবো আঁখিপল্লবে
নেত্রপটে জেগে আছে যদি চূমোর আকুতি
কব্জির চাতুর্যে বীরত্ব মেখে আছি কিনা
অতিনাসায় বাসি বঁসরাই গোলাপ বারোমাস

নখরে তীব্র পুরুষ আঙুলের হাতছানি
লোমকূপে সাহসিক লোভাতুরা স্পর্শ
বিভাজিকা বুঝে নেবো আঙুলের হর্ষ
সে আমার মুখোমুখি আয়নার দর্প

দিন আসে দিন যায় আলবেট খেলি চুল
আয়না তো লিখে রাখে চেনাকে অচেনার ভুল






লেখনী

কোলাহল রাখি লিখে, নিভৃতি কলমে কালি
আগুনে সমাদৃত মুগ্ধমোহ, হইচই তার সখা

আমার ভেতরে জ্যোৎস্না ফুটেছে দ্যাখো
কেননা লিখেছি চাঁদ, রাত্রি- আঁধার-কথা

শূন্য সরিয়ে ভেবেছি,  এককে দেবো মন
শতক সহস্র কোটি, অযুতের পথে যাবো

কোলাহল হবে ব্যর্থ একদা, রক্তপাতের গল্প
ব্যাধি ও ক্লেদ জন্ম নিলেও উপশম ফিরে পাবো

নির্জনে শুধু মর্মর থাক, স্বপ্ন রচনা অল্প