শুক্রবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৭

পৃথা রায় চৌধুরী




পৃথা রায় চৌধুরী

বেহায়া 

ঝিলে রোদছবি সাক্ষী
কয়েকশো জোড়া চোখ,
প্রথম নিঃশ্বাস গেলা তোমার...
আমার।


উগ্র মশলা জর্দা শ্বাস
ঠোঁট জিভ পুড়ে শিরা উপশিরায়
নিষিদ্ধ অবৈধ জ্বালার সুখ...


তোমার আনাড়ি আগ্রাসী লালায়
বিড়ির ধোঁয়া সমস্ত নিয়েছি
তাগিদে... তোমার, আমারও...


প্রতিবাদে নয়,
অসামাজিক চুমু খেয়েছি নির্লজ্জ,
বেমিসাল প্রেমে।


মনে পড়ে "আনাড়ি" বলায়
তোমার অভিমানী জবরদখল।





বেপথে

এভাবেই দামি যাতায়াত
ভালোবেসে ফেলে লোকাল ট্রেন
লেডিস কম্পার্টমেন্ট মুড়ে
অহংকার আলিঙ্গন করে বিপরীত।


কল্পসিঁড়ির ধাপে গেঁথে যায়
কাঁটাবেঁধা নারীছাপ
চিলেকোঠায় প্রবেশাধিকারের নাম
দায়িত্বশীলতা।


হৃদয়ের অন্ধত্ব জানা থাকলেও
জানো না তার বোধির পরিমাপ
দৃষ্টিহীনতার তল না পেয়ে,
হোমাগ্নিতে ময়লা খোঁজো...


বঞ্চনা প্রতিবঞ্চনার খেলায়
অপরাজিতা শুকায়;
গঙ্গার পাড়, তোমার জয় হেরে যায়
তুচ্ছ পরাজিত সত্যে।





টান

সারাজীবন ধরে চেষ্টা করে যাবি মোছার
তবু পারবি না, তুইও জানিস
আজ যেমন তোর কাঁধে এখনও আমার ছোঁয়া...
লেগে আছে, অথবা ফেলতে পারিসনি আজও
হোক না, স্বার্থেই... তবু এও ধ্রুব সত্য।





আবাদ

শেষের পাতে বজ্র কঠিন চোয়াল
আর ভ্রূকুটি ভরা মুঠি,
বলেছিলাম এসো শীগগির
দরজা বন্ধ ছিলো বুঝি,
তাতেই বা কি?


এক গালে হাত, বসেই আছি মোমের আলোয়
ভেতরে তোমার জানলা গলে পৌঁছে দেবো দোয়েলদুপুর
আমার আকাশ মাছরাঙাতে, মেকি তারে বিজলীসেতার
আগুন বিলোয়... লাভার স্রোতও!


বিলাসিতার... কার বিলাসী? অঘোরময়ীর স্বপ্নচারী
সে স্বপ্ন গিলতে জানি বছর বছর নোনতা বরণ
হাটখোলাতে কিনতে পারে কে?
তোমার আমি!


এবার দেবো সাজিয়ে জীবন পটের আঁকে
যারা হাঁকে দারুণ ভালো, চিল্লে তাদের বলবো
অনেক বোল তুলেছো, এবার দেখি
চাষের কাঁটা রুইয়ে নিখুঁত তুলতে পারো কে?




এখন কবিতা

তোমার তাতে কিই বা এসে যায়
যখন দেখো, সমস্ত শব্দেরা আমার শহর ছেড়ে
তোমার সাথে ঢুকে পড়েছে
স্বেচ্ছায় বেছে নেওয়া তোমার একাবাড়ি।


কার মনে পড়ার কথা নয় প্রশ্নের উত্তরে
আমার নাম আসে নি তোমার মনে...
ধন্য ধন্য বর্ষা নামে বারুদ সমেত


যে গান শুনতে চেয়ে চলে গেছ
সে গান ঠোঁটে রাঙিয়ে বেড়াই
কানে পরে থাকি, তোমার প্রিয় 'নন্দর মা'
তোমার দিয়ে যাওয়া স্বরে;


এখন ছাতার নিচে হাঁটি
রোদ পেরিয়ে বৃষ্টি নেয়ে
তোমার থুতনিতে কটা সাদা গোনার অপেক্ষায়...
দিনক্ষণতারিখের গল্প,

তুমি এলে হবে।